তন্ত্রসাধনা
মাথার উপর নগ্ন চাঁদ, আমি কবিতা পড়ি
কামনা নয় বাসনা নয়, তার শরীর থেকে
উঠে আসে বোধি সংলাপ
বাবার মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তর্পণ করি
শুরু হয় তন্ত্রসাধনা
একা হতে হতে চলি গভীর রাত্রির দিকে
মূর্তি - ১
অভিমান পুষে রাখি
আবছা মূর্তিটা কি তোর ছিল সুদীপ ?
ড্রেস হাউস, হাইওয়েতে, জানালার আকাশে, নির্জনে
অন্ধকারে জোনাকির মিছিলে
ওয়েবসাইটের ব্যালকনিতে কার মূর্তি ?
আকাশের গায়ে দেখি প্রতিবিম্ব
দু'পা ভারী হয়ে মাটিতে গেঁথে যাচ্ছে
সত্য ও অন্ধকার ঝুলে আছে আমাকে ঘিরে
মূর্তি - ২
দু'চোখে সারাদিন বৃষ্টি দেখছি আজ
বৃষ্টিতে ভিজে যায় মাটি
এ মাটিতে গড়ে তুলি তোমার মূর্তি
ডিমা নদীর পাড়ে এখন সন্ধ্যার পায়চারি
আমি তোমার মূর্তি থেকে জ্যোৎস্নার
ছায়া নেমে আসা দেখি .........
উদ্ভিদ ব্যাকরণ
শুকিয়ে যাচ্ছে মাটির যোনি
সমুদ্র থেকে ছুটছে দুরন্ত বাইসন
ভুলে গেছি উদ্ভিদ ব্যাকরণ
প্রতিদিন ব্যবচ্ছেদ করি ব্রহ্মবীজ
মমি
অপুষ্টি জমেছে মনে
অসম্পূর্ণ স্তুতি
আমরা এলাম পাশে
যমুনা পাড়ে
যতটুকু তুমি আছো
ততটুকু আমি
আমরা দুজন আজ
আমাদের মমি
বোটানির বিশ্বে
মহাবিশ্ব ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে
পৃথিবী ঘুরছে
দোলক ঘড়ি, পেন্ডুলাম
ঢং ঢং করে কাটা পার হচ্ছে সময়
আমি সেতুর মুখে দাঁড়িয়ে
বোটানির ছাত্রীটির কথা ভাবি
কাইনেটিক্সপড়াচ্ছি
ভেতরে ভেতরে একটা কান্না জমাট বেঁধে
মাঝে মাঝে গর্জন করে
তারই স্ফুলিঙ্গ ও বৃষ্টি নিয়ে
সেরা মূহুর্ত গুলি ধরে আছি
ভাঙা মেঘের পাশে চাঁদের মতো
সুদেষ্ণার আসা যাওয়া আজ বড়ো রোমান্টিক
মনে হয় তাকে কাইনেটিক্স পড়াচ্ছি
তরবারি
এই নেটওয়ার্কের যুগে তোমার কনট্যাক্ট পেলাম না
এই বুক দেখ
নরম আঙ্গুল ছুঁয়েছো যত
ক্ষত হতে হতে প্রত্নশিলায়
বেঁধেছি ঘর
কত স্মৃতির কারুকার্য বিরহে সেজে ওঠে
আমি অভিমান করে আঙ্গুলে এঁকেছি তরবারি
মৃত মানুষের কথা পুরাণ
মৃত মানুষেরা কথা বলে চুপিচুপি
মনের ভিতর প্রত্ন তাদের শরীর
প্রলম্বিত স্বরলিপি উচ্চগ্রামে থাকে
নিশ্চুপ ভাষায় আজও তারা কথা বলে
সরু গলিটা
এক ব্রহ্মবীজে
জন্ম নিল অসংখ্য নক্ষত্র ও পৃথিবী
ক্রমশ তারা দূরে সরে
এই শরীরে ধরেছি আমি
এক অশরীরী পৃথিবী
কোথায় যেন আজান দিয়ে ওঠে একটা নূপুরের গুঞ্জন
কোথায় যেন রাত্রিতে একটা নীরব ব্যথা
আমাকে হাঁটতে শেখায় কবিতা উপত্যকার দিকে
হাঁটতে হাঁটতে আমি ভাবি
কখন এই সরু গলিটা চওড়া হবে ।
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

No comments:
Post a Comment